লড়াই কথা-১
হে বন্ধু শত্রু আমার
পুরাতন বিদ্বেষ করো ছারখার,
যা কিছু পাইনি নেই প্রয়োজন
নতুন বছরে মানুষ পাক ভরসার মন।
জীবন একটা ছোট নাম
আমরা হলাম জীবনের মঞ্চে
হাসি কান্নার সরঞ্জাম।
****
নাম আদিমা মজুমদার, বাড়ি বলতে ছোট একটা ইছারখাল, যেন বিভূতিভূষণের ইছামতী। খালের পাড়ে বঠগাছ, শিমূল গাছ।গাছের ডালে শকূন। নিচে চৌদ্দ গোষ্টির কবর। কবরের দিকে যেতে নেই, ভূতের বাজার।সামনে দিয়ে গেলে তিনবার ছুরা এখলাছ পড়তে হয়।
খালের চেয়ে একটু বড় একটি জলাধার নাম তার আমজুর, রকো হাওরে তার সমাপ্তি। সমতল উপত্যকার বিল,হাওর নালার জল বহন করে পৌছে দেয় সোনাই নদীতে,এবং এখানেই আত্মত্যাগ করে। তার বাঁধের গা ঘেসে যে বসতি গড়ে উঠে নাম হয় ইছারপার।ধানীজমির বিস্তীর্ণ প্রান্তর বিছানো সারিবাঁধা জনপদ।
সোনাই নদী গিয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে মিশে যায় বরাক নদীতে।
গ্রামে একটি স্কুল একটি মসজিদ মাত্র।৪৫৭ নং পশ্চিম ইছারপার এল পি স্কুল।স্থাপিত ১৯৫০ ইংরাজি। চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রিটি জল ও চিনির মিশ্রণকে কি বলে, উত্তরে পরীক্ষার খাতায় লিখেছিলো ' সরবত'।পুরো মার্ক দিয়েছিলেন গুরুজী,কারন তিনি জানতেন মেয়েটির মেধা আছে।
মসজিদের মিয়াসাবকে নানা আরবি শব্দের বাংলা অর্থ জিজ্ঞেস করে মার খেতে হয়েছিলো তাকে।
মসজিদের আজান শুনে ঘুম থেকে উঠা, স্কুলটাইম ফুল ফুটলে স্কুলে যাওয়া । ঝিঙে ফুল এবং বারান্দার ছায়া ঘড়ির কাজ করতো।
সবুজ মাঠ, বিস্তীর্ণ জলরাশির অশান্ত ঢেউ, পূর্ণিমায় জ্যোৎস্নামাখা রাতে জোনাকির খেলা।নেরা জড়ানো মাঠে গরু মহিষ হাস মুরগির সাথে প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা মেয়েটি আজ গুন গুন করে ' মানিকে মাগে হিতে...(নতুন বছরে একটা জীবন্ত ধারাবাহিক উপন্যাস)চলবে...
Comments
Post a Comment