কল্যাণীর সংসার
শুয়োরের বাচ্চিরে কইছি মাতিস না, তেবো মাতে। আমি কাম থাকি হেরান অইয়া আইলে...
_ফেল আতো লইয়া আইছোনি।কিতা রান্দিতাম।তুড়াবাদে কইবায়নু ভাত দে।
_- তর মার শাউয়াত থাকি দিবে।
__- দেখো, আমার মারে তুলিয়া মাতিও না। বেশ বাদ অইবো।
_ তোর মা, তোর বাপরে, বাড়ি থাকি বার করি দিছে।তুই ও কিতা...
__ভালা করছে। ইতা বেটাইন দিয়া কিতা অইতো। হারামির দল।
নিত্য মারামারি ঝগড়া কল্যাণী আর মানিক দাসের। দুই বছরের লকডাউনে তাদের এই অবস্থা। যা কিছু সরঞ্জাম ছিল ঘরে সব বিক্রি করে দিয়েছে। একসময় এমন অবস্থা হয়, কল্যাণীর মায়ের দেওয়া প্রিয় কানের রিংটি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়।
ভোটের সময় গ্যালন গ্যালন মদ রাখা হয়েছিল তাদের ঘরে । কারণ স্কুলটা ছিল পাশে। সেই থেকে মদ খাওয়া শুরু করে মানিক। একটা বাচ্চা নিয়ে তাদের সুন্দর সংসার চলে যাচ্ছিল কোনরকমে। কল্যাণী তার পাঁঠা জোড়া বিক্রি করে একটা এন্ড্রয়েড মোবাইল ও কিনেছিল সেটাও বন্ধক রাখতে হয়।
মেট্রিক পাশ করার আগেই মানিকের সাথে ভালোবাসার বিয়ে। লকডাউনে আরেকটা মেয়ে হয়। দুটো মেয়ে কেনো হলো এ নিয়ে ও মানিকের মা কথা শোনায়।
মোবাইলটা নিয়ে ইমদাদুল আজ এসে বসে তাদের ঘাসজমির উঠোনে।গায়ের গেঞ্জিতে একটা গরুর ছবি নিচে ইংরাজিতে লিখা - -There is a cow, How do you cross? একপাশে ছোট্ট একটা দিঘি, শ্যাওলাকালো জল।কল্যাণী উনুনে রাধা বাসন কয়টা মাজতে বসেছে।
_ইমদাদুল ভাই, মোবাইলটা ছাড়াবো কি করে।
_ চিন্তা করো না,হয়ে যাবে।
_ ভাই, তোমরা ছিলে বলে এবারের লকডাউনে বেঁচে গেছি।
কল্যাণীর শাশুড়ি বসেছিলেন দিঘির পাড়ে, চাকু দিয়ে নারকেলের শলার ঝাড়ু বানাচ্ছেন,বিক্রির জন্য।মাথায় দেওয়া আঁচলে মুখটা মুছে অতি করুণ স্বরে বলেন, বাবারে, ' আমার বয়স ৭৪ বছর চলের, এহেন কারফিউ বা অতর্কিত লকডাউন দেখিনি।কত প্রধানমন্ত্রী পেলাম এতো পাগল পাইনি।বাবা,পেটের জ্বালা তারা কী বুঝবে।জানো পুরো তিনটি দিন আমরা ভাত চোখে দেখিনি।' সংযোগ ' সংস্থা যদি আমাদের পাশে না দাঁড়াতো, নির্ঘাত পাঁচটা লাশ উদ্ধার করতে তোমরা।
মোবাইলটা হাতে দিয়ে ইমদাদুল, বলে ' বোউদি ' এই নাও'। মানিকদা মদ খেলেও তোমাকে খুব ভালোবাসে,নেশায় কি কি বলে ফেলে মনে রেখো না।
_ কি যে বলো,অভাবের সংসারে ভালোবাসা কি আর সুখে থাকে?
_ কেনো থাকবে না। আজ তিনদিন থেকে আমাদের ফুল বাগানে কাজ করছে মানিকদা। ডাক্তার শামসুল হুদা একটা সুইমিং পুল আরম্ভ করেছে নাগাটিলায় সেটাতেও কাজ করে দেখেছি।
_ আমার কাছ থেকে ভিজিট নেয় না শামসুলদা। ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করি ঠাকুর যেন তোমাদের খুব ভালো রাখেন।
_ ভালা কাম কিছু তো করতো।ডিম বেচিয়া অউ টাকা দিয়া ডাক্তার দেখাইন মেয়েরা।
_ভাই ঠিক কথা কইছো।
মোবাইল হাতে নিয়ে কল্যাণী একবুক নিঃশ্বাস নিয়ে ইমদাদুলের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে চোখটা মাটির দিকে করে। কত কিছু তার মনে পড়ে।এক হাজার টাকার জন্য দোকানি সাবিত্রী পাল তাকে কি বেইজ্জতি করেছে।ভাবতে ভাবতে তার চোখ দুটো ছল ছল করে ওঠে।।বলে, আর তথার বাবাকে বকবো না।এতো টাকা শোধ করে দিয়েছেন? স্বপ্ন দেখছি নাতো?
__ কিছু বাকি আছে, হয়ে যাবে।
হেমন্তের বিকেলে পাশের গাছ থেকে কতগুলো শুকনো পাতা ঝুর ঝুর ঝরে পড়ে।
রাতে পরম আনন্দে দুজনে ফেসবুক খুলে 'কথা প্রান্তিক বিজয়া'র গল্প সংখ্যা দেখে ৮০০ছাপিয়ে গেছে।'জননী 'গল্পটা পড়ে।
অনেকদিন পর তৃপ্তিকর সেক্স করে, শান্ত ঘুম দেয়।
## ## # #
Comments
Post a Comment