পিসির লীলা

 পিসি আমি প্রাতঃভ্রমণে রোজ 5:30 এ ঘর থেকে বের হই, ভোরের মৃদু বাতাস এবং শুনসান রাস্তায় আমরা হাটতে থাকি  কত রকম দৃশ্য উপভোগ করি।

আজ কনকপুর বাঁধ দিয়ে হাঁটছিলাম। হঠাৎ একটি ছেলে পিসির সামনে এসে বলে 'মাসী মাসী আমার ঘরে চলো, আমার বউয়ের বাচ্চা হবে, ব্যথায় খুব ছটফট করছে। কোনো মেয়েলোক  নেই। ছেলেটি পিসির হাত ধরে ফেলে। আমি ভয় পেয়ে যাই। পিসি ছেলেটার সাথে চলেন ওদের ঘরে। সোমিলের সামনে দুতালা কাঠের ঘর। ছোট্ট পায়রার ঝুপড়ির  মতন। দু-একটা থালা-বাসন। সামনে বাঁশের আলনায় ফ্যাকাশে কিছু কাপড় পেটিকোট আছে।

পিসি দেখেন বাচ্চাটার মাথা বেরিয়ে আসছে। পিসি হাত দিয়ে টানছে, টেনে বের করে বলছেন সূতা এবং ব্লেড আনতে। ছেলেটি যেখানে সেখানে খুঁজছে কিন্তু কোথাও ব্লেড আর সূতা পায়নি। তারপর ছোট্ট একটি গামছা ছিড়ে পিসি নাড়ি বাধেন। ছেলেটা কোথা থেকে একটা ব্লেড নিয়ে আসে। বাচ্চাটাকে মায়ের থেকে আলাদা করে একটি পেটিকোটে জড়িয়ে নিয়ে আমার

কোলে দেন। তারপর দেখি ব্যাঙ এর মতো কি একটা বের হচ্ছে, বলি এটা কি পিসি? পিসি বলেন এটার নাম ফুল বা প্লাসেন্টা। আমি ভয় পাইনি। এই প্রথম চোখের সামনে ডেলিভারি দেখলাম। জীবনে ভাবিনি এত কম বয়সে আমার সামনে এসব ঘটবে।

পিসির জন্যই আজ আমি অনেক কিছু শিখলাম।জীবনে একথা ভুলতে পারবো না।পিসির সাথে থাকলে কথায় কথায় শুধু শিখি,আর ভাবি পিসি আমার জীবনে এক ধ্রুবতারা। পিসি এবং মা বাচ্চা দুজন সুস্থ থাকুক এটাই চাই।

                    সৃষ্টি মজুমদার

                  ৩০/১১/২০২১

Comments

Popular posts from this blog

শিলচর মেডিকেল কলেজ